
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১২ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাকে বরণ করে নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য: অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগদান করলেন। তাকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি, তার এই যোগদান আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।’’
সদ্য যোগদানকারী সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘‘আমি আমার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলাম। বিএনপিতে যোগদানের সুযোগ করে দেওয়ায় বিএনপি মহাসচিবসহ সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে পরিবর্তনের সুর: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিতে যোগদানের পর এহসানুল হুদাকে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এই গুঞ্জন সত্যি হলে ওই আসনে বিএনপির বর্তমান প্রার্থীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এহসানুল হুদাই হবেন ধানের শীষের কাণ্ডারি।
ধারাবাহিক যোগদান ও মনোনয়ন: নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি বিএনপির তৃতীয় বড় ‘জমায়েত’।
এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। যোগদানের পরপরই তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
গত ১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শরিক দলের নেতাদের বিএনপিতে ভেড়ানোর এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের আগে দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং আসনভিত্তিক কৌশলগত অবস্থানেরই অংশ।
এম.এম/সকালবেলা