
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কওমি ঘরানার অন্যতম দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সমমনা ইসলামী দলগুলো। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তকে ‘পরগাছা’ রাজনীতির সঙ্গে তুলনা করে কঠোর সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, জমিয়তের এই সিদ্ধান্তে ইসলামী দলগুলোর এক প্ল্যাটফর্মে আসার একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলো।
‘পরগাছা’ রাজনীতির সমালোচনা: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, শুরুতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম তাদের সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিল। এমনকি জমিয়তের অফিসেও লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তারা সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে বিএনপির সঙ্গে একাকার হয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘‘গত ৫৩-৫৪ বছরে ইসলামী দলগুলোর ভূমিকা ছিল ‘পরগাছা’র মতো—অন্য গাছের ওপর ভর দিয়ে চলা। আমরা যদি নিজেরা গাছ হয়ে দাঁড়াতে না পারি, তবে আজীবন পরগাছাই থাকব। এতে দেশ বা ইসলামের কোনো কল্যাণ হবে না’’।
বিএনপির আদর্শিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘বিএনপি পরিষ্কার বলেছে তারা শরিয়াহ আইনে বিশ্বাসী নয় এবং মৌলবাদের উত্থান নিয়ে তারা চিন্তিত। এমন দলের সঙ্গে গিয়ে জমিয়ত ইসলামের কী উপকার করবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়’’।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া: অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি জানান, তারা চেয়েছিলেন সব ইসলামী দল একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আসুক। আটটি দলকে নিয়ে একটি মোর্চা গঠনের প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পক্ষ থেকে জমিয়তের জন্য দরজা খোলা ছিল। আমরা তাদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আহ্বান জানিয়েছিলাম। এটি ছিল সব ইসলামপন্থী দলের এক হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। তবে প্রতিটি দলই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে’’।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, কওমি ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী জোট গঠনের চেষ্টা দীর্ঘ দিন ধরেই চলছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ায় সেই ঐক্যের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এম.এম/সকালবেলা