
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করতে বড় ধরনের রদবদল এনেছে বিএনপি। সারা দেশের অন্তত ১৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থিতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে নতুন মুখ ও মিত্রদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি রাজধানীর ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তার পক্ষে ফরম জমা দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। এর আগে এই আসনে আন্দালিব রহমান পার্থের নাম শোনা গেলেও তারেক রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঢাকার রাজনীতিতে মিত্রদের গুরুত্ব দিতে ঢাকা-১২ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। তিনি ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান সিনহার পরিবর্তে আবদুস সালাম আজাদ এবং ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির তালিকায় এবার বেশ কিছু নতুন ও তরুণ মুখ স্থান পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান ঝিনাইদহ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের স্থলে কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে বেছে নিয়েছে দল।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার জানা মতে ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত। প্রতিদিন একাধিক পরিবর্তনের কারণে একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।”
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের অসন্তোষ দূর করতে এবং প্রতিটি আসনে যোগ্যতম প্রার্থী নিশ্চিত করতেই এই শেষ মুহূর্তের রদবদল। বর্তমানে বিএনপি ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও মিত্রদের জন্য আরও ১৫টি আসন উন্মুক্ত রেখেছে।
মারুফ/সকালবেলা