
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে জোটের সমীকরণে বড় ধাক্কা খেল বিএনপি ও তাদের শরিকরা। এই আসনে বিএনপি তাদের জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে সমর্থন দিলেও তা মেনে নেননি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ও নির্বাহী কমিটির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। হাসান মামুন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
বিদ্রোহের কারণ ও পদত্যাগ: বিএনপি এই আসনটি জোটের স্বার্থে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে আসা হাসান মামুন দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের মূল্যায়নে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ—দুটোই ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
হাসান মামুনের বক্তব্য: মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসান মামুন বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আমার বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়নি। তবে আমি আমার অবস্থানে অনড়। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি মেনে নেব।’’
ঝিনাইদহের ছায়া পটুয়াখালীতে: জোটের রাজনীতি নিয়ে বিএনপির ভেতরে সৃষ্ট এই অসন্তোষ কেবল পটুয়াখালীতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খানকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেখানেও বিএনপির সাবেক প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। পটুয়াখালীতেও ঠিক একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটল।
এম.এম/সকালবেলা