
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে রচিত হলো নতুন অধ্যায়। শহরটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জোহরান মামদানি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন তিনি। শপথ গ্রহণের সময় তিনি এক হাত উন্মুক্ত রেখে অন্য হাতটি পবিত্র কোরআনের ওপর রাখেন।
৩৪ বছর বয়সী নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ পরিচয় দেওয়া এই তরুণ রাজনীতিকের শপথ পড়ান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। এ সময় মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজি তার পাশে ছিলেন।
পরিত্যক্ত স্টেশনে ব্যতিক্রমী শপথ: সাধারণত সিটি হলে জমকালো আয়োজনে শপথ হলেও মামদানি বেছে নিয়েছেন সিটি হলের নিচে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনকে। তার দপ্তর জানিয়েছে, শহরের সাধারণ কর্মজীবী মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। শপথ শেষে মামদানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এটি সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।’’
বিশাল অভিষেক ও কোরআন: বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সিটি হলের বাইরে বড় পরিসরে মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। সেখানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে বামপন্থী রাজনীতির দুই প্রভাবশালী নেতা—সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ বক্তব্য দেবেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, অভিষেকে ব্যবহারের জন্য মামদানির পারিবারিক সংগ্রহের দুটি এবং লেখক আরতুরো শোমবার্গের সংগ্রহ থেকে একটি কোরআন শরীফ নেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও ট্রাম্প ফ্যাক্টর: নির্বাচনী প্রচারে মামদানি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন চালু করা। তবে এসব বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, ‘‘নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকী রাজনীতির গুরুত্ব কমে যায়, তখন ভোটারদের কাছে বাস্তব ফলাফলই মুখ্য হয়ে ওঠে।’’
এছাড়া মামদানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মামদানির বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও পরে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে, তবে অভিবাসী ইস্যুতে দুজনের মধ্যে বিবাদ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। মামদানি অভিবাসীদের সুরক্ষার অঙ্গীকার করলেও ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা