
সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়ার দুই দিন পর উদ্ধার করা বাঘটিকে খুলনায় রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাঘটি শঙ্কা মুক্ত নয়। পূর্ণ বয়স্ক মেয়ে বাঘটির সামনের বাঁ পা ফাঁদে আটকে ক্ষত হয়েছে। সঠিক চিকিৎসা দেওয়া বিঘ্নিত হলে গ্যাগরিন হতে পারে। এর থেকে কিডনিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বাঘটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের রেসকিউ সেন্টারে আনা হয়। এখানে রাত সোয়া ৮টার দিকে বাঘটিকে খাঁচা মুক্ত করা হয়। আনার পরই চিকিৎসা শুরু হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা জুলকার নাইম এ সব কথা জানান। তিনি বলেন, ফাঁদে আটকে পা বেশি ক্ষতি হয়েছে। কয়কটি টিস্যু কেটে গেছে। সেখানে পচন ধরতে পারে। তা থেকে গ্যাগরিনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাঘটি ফাঁদ মুক্ত হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফাঁদ অনেক মজবুত ছিল। তাই ছিঁড়তে পারেনি। জোরাজুরির কারণে ফাঁদ আরও কষে পায়ে ক্ষত তৈরি করেছে।
এ কর্মকর্তা বলেন, খুলনায় রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আবার বনের ওই জায়গাতেই ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাফারি পার্ক নেয়ার চিন্তা করা হয়নি। কারণ সেখানে গেলে এটিকে বনে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা কম। আমরা চাই, বাঘটি সুন্দরবনে ফিরে যাক। সুন্দরবনের মধ্যে যে অংশে বাঘটি আটকা পড়ে সেখানে ৩ বার ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন ছোড়া হয়েছে। প্রতিবার ৩ এমএল করে মেডিসিন দেওয়া হয়েছে।
‘প্রথম দুবার ছোড়া ট্রানকুলাইজার টার্গেট মিস হয়। তৃতীয় বার ছোড়া সফল হয়। বাঘটি দুর্বল থাকায় কম মেডিসিন দেওয়া হয়। অচেতন হওয়া বাঘটির আধা ঘণ্টায় জ্ঞান ফেরে। এর মধ্যে খুলনায় আনার পরিকল্পনা থেকে আবারও ইনজেকশন দেওয়া হয়। খুলনায় এনে খাঁচামুক্ত করা হলে বাঘটির জ্ঞান ফেরা অবস্থায় দেখা যায়। বাঘটিকে খাবার দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন ওয়াটারসহ খাবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মেডিসিন দেওয়া হয়েছে।’
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মেয়ে বাঘটি পূর্ণবয়স্ক। বাঘের সামনের বাঁ পা ফাঁদে আটকে ছিল। ফলে পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিন ধরে বাঘটি ফাঁদে আটকে ছিল বলে ধারণা বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ টিমের। মূলত শনিবার সকালের দিকে আটকা পড়তে পারে। দুপুরের পর বনবিভাগের কাছে খবর আসে মোংলার শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়েছে। এরপর থেকে বাঘটি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে তারা। উদ্ধারের জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসারসহ বিশেষজ্ঞ দল আসে রবিবার দুপুরে। এ ছাড়া উদ্ধার কাজে আসে সুন্দরবন বন বিভাগ ও খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার শরীরে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বাঘটির শারীরিক অবস্থা বেশি একটা ভালো না, খুলনায় চিকিৎসা শেষে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।