
হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহাদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তিসহ তিন দফা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রসিদ এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী ও সুরভীকে হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়।
১. নিঃশর্ত মুক্তি ও শাস্তি: মাহাদী ও সুরভীকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। ওমর ফারুকসহ যেসব পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা তাঁদের হেনস্তা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. দায়মুক্তি অধ্যাদেশ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩. সুরক্ষা ও সম্মাননা: জুলাই বিপ্লবে অবদান রাখা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সকল সদস্যের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাঁদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিবাদের শিকার সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রসিদ আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নিম্নলিখিত কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করেন:
মামলা দায়ের: জুলাই অভ্যুত্থানে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেই সব থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিসহ কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা প্রণয়ন করে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।
উপদেষ্টাদের সঙ্গে মতবিনিময়: দায়মুক্তি অধ্যাদেশ নিশ্চিত করতে আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলন: বৃহত্তম দুই জোটের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা ও বিপ্লবের চেতনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিপ্লবীদের ওপর কোনো প্রকার অন্যায় বা হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মারুফ/সকালবেলা