
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, জাতীয় সনদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। দীর্ঘ ৯ মাস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়েছে। আর যাতে কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, সেই লক্ষ্য নিশ্চিত করতেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে রোববার (১১ জানুয়ারি) বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, দেশে ভিন্নমত ও দল থাকবে, তবে ভবিষ্যতে দেশ কেমন হবে—তা নির্ধারণ করবে জনগণ। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে এতদিন ছেলেখেলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র ১৭ মিনিটে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে দেশের সব মানুষের সমর্থন থাকলেও দুই-তৃতীয়াংশের জোরে তা বাতিল করা হয়েছিল। এরপর থেকে সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় উচ্চকক্ষের অনুমতি লাগবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টিকে এতদিন ‘তামাশা’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতীয় সনদে তা হতে দেওয়া হবে না। এতদিন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে রাষ্ট্রপতির নামে ক্ষমার চিঠি ইস্যু হতো। এছাড়া জাতীয় সনদে সংসদে এমন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যাতে নিজ দলের বেইনসাফি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও দলের নেতারা কথা বলতে পারেন। অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙিয়ে কোনো চেয়ারে বসতে না পারে, সেজন্য স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি বোর্ড গঠনের ওপরও তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার। তিনি ইমামদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশ আবারও খুনি ও মাফিয়াদের হাতে চলে যাবে। সমাজে মানুষ আপনাদের কথা বিশ্বাস করে, তাই আপনাদের সবার উচিত মানুষকে গণভোটের বিষয়ে সচেতন করা। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এম.এম/সকালবেল।