
ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্বৈরাচার হওয়া রোধ করতেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “ভবিষ্যতে ব্যক্তিবিশেষের স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।”
রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদে সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন সকল দল ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, তেমনি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও একক কোনো প্রভাব থাকবে না, বরং সকলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সকল মানুষের সমতা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও আমরা সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি নাই। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ আমাদের তরুণরা তৈরি করে দিয়েছে।”
আসন্ন গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ এই ভোটকে রাষ্ট্র সংস্কারের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। সভায় বিশেষ অতিথি ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, “গণভোট যদি ব্যর্থ হয় তাহলে পরের বার আপনার আমার সন্তানকে জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে, পরের বার খুব দ্রুতই তারা ফিরে আসবে।”
মনির হায়দার কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে জানান, গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই, তাই এর প্রচারণায় কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই। এটি দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার একটি জাতীয় এজেন্ডা।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশের ডিআইজি এবং কমিশনারসহ বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে গণভোটের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আসন্ন গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও রায় অত্যন্ত জরুরি।
মারুফ/সকালবেলা