Deleted
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

পাকা চুল কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়?

পাকা চুল কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়?

চুল পাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা কমবেশি সবারই থাকে, কারণ এটিকে বার্ধক্যের দৃশ্যমান ছাপ হিসেবে দেখা হয়। তবে চুল পাকা নিয়ে জাপানের টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের গবেষণার ফলাফল জানাচ্ছে এক বিস্ময়কর তথ্য: চুল পেকে যাওয়া আসলে শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পরোক্ষভাবে ত্বকের ক্যানসার বা মেলানোমা থেকে রক্ষা করতে পারে।

চুলের রঙের ব্যাপারটা নির্ভর করে মেলানোসাইট স্টেম সেলের ওপর। গবেষকরা বলছেন, জিনগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে এই ধরনের একটি কোষ দুটি ভিন্ন ফলাফলের দিকে যেতে পারে—একটি হলো বয়সজনিত পরিবর্তন (চুল পাকা), অন্যটি হলো টিউমার (মেলানোমা)। মেলানোমা হলো ত্বকের সব ধরনের ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক। এখানে পারিপার্শ্বিক চাপ বলতে এমন কিছুর উপস্থিতিকে বোঝানো হয়, যার কারণে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; যেমন দেহে তৈরি হওয়া ফ্রি র‍্যাডিক্যালের মাত্রা বেড়ে যাওয়া।

কেন চুল পাকে এবং এর নেপথ্যে বিজ্ঞান:

ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুরের মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএ যখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন স্থায়ীভাবে থেমে যেতে পারে। এ রকম হলে চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেল কমে যায়, যার ফলে চুল রং হারায়, অর্থাৎ চুল পেকে যায়।

গবেষকরা বলছেন, চুল পেকে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি আসলে ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায়। কারণ, যদি জিনগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও স্টেম সেলের বৃদ্ধি থেমে না যেত, তাহলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকত এবং তা থেকে ক্যানসার হতে পারত। কিন্তু কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন থেমে গেলে ওই কোষ থেকে আর ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে না। অর্থাৎ, পাকা চুল সৃষ্টির এই ঘটনার কারণে পরোক্ষভাবে ওই ক্যানসার থেকে বাঁচা যায়।

যখন হয় ক্যানসার:

ইউরোপিয়ান মেডিকেল জার্নাল-এর সূত্র অনুযায়ী, গবেষকরা জানান, যদি পারিপার্শ্বিক চাপে কোনো মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির মতো কোনো নির্দিষ্ট কারসিনোজেনের প্রভাব থাকে, তবে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন আর বন্ধ হবে না। কারসিনোজেন হলো এমন উপাদান যার প্রভাবে ক্যানসার হতে পারে। কারসিনোজেনের প্রভাব থাকলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন চলতেই থাকবে এবং চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেলের পরিমাণও কমবে না, ফলে চুলও পাকবে না। কিন্তু অস্বাভাবিক এই বিভাজন চলতে থাকার কারণে সৃষ্টি হবে ক্যানসারের ঝুঁকি।

মারুফ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

'আমি মেয়ে হতে পারি, কিন্তু বোকা মেয়ে নই’

1

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিট

2

‘ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করবে জামায়াত’

3

খালেদা জিয়া জীবিত থাকলে আমাকে বহিষ্কার করার আদেশ আসতো না :

4

শিকলবন্দী শান্তর চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন ইউএনও, তুলে দিলেন ১৫

5

কঠোর নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ১৩ সেনা কর্মকর

6

বিপিএল শুরুর আগেই চট্টগ্রামের দায়িত্ব ছাড়লেন বাশার

7

কিশোরগঞ্জ-১: মাজহারুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে এক মঞ্চে ৫ নেত

8

জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি না হলে নির্বাচন অর্থহীন : সারজিস আল

9

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মওলানা ভাসানী আমাদের প্রেরণার উৎস: তারেক

10

কলকাতায় লাইফ সাপোর্টে ওবায়দুল কাদের: অবস্থা সংকটাপন্ন

11

ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হাদির মরদেহ

12

‘মোদির বোন দিল্লিতে বসে আছেন, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান’: আস

13

বেগম জিয়ার আসনগুলোতে প্রার্থী হচ্ছেন যারা, জানালেন সালাহউদ্দ

14

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় তিন বাহিনী প্রধান

15

ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির

16

নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা রুখে দিতে হবে: মির্জা ফখরুল

17

'বিদেশ নেওয়া হতে পারে খালেদা জিয়াকে'

18

শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধে ব্যাহত যান চলাচল

19

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে পিছিয়ে বরিশালের দরিদ্র-অতিদরিদ্র জনগোষ

20
সর্বশেষ সব খবর