লাইফস্টাইল ডেস্ক: গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে একটু ঘি বা ডাল, আর তার সঙ্গে একটি কাঁচামরিচ—বাঙালি ভোজনরসিকদের কাছে এর চেয়ে তৃপ্তিদায়ক খাবার খুব কমই আছে। ঝালপ্রেমী হোন বা না হোন, ভাতের পাতে নিয়ম করে কাঁচামরিচ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। কেউ খান স্বাদের জন্য, কেউবা বলেন এতে রুচি বাড়ে।
কিন্তু প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে এই কাঁচামরিচ চিবিয়ে খাওয়া শরীরের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর? নাকি এতে অজান্তেই ডেকে আনছেন কোনো বিপদ? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ শরিফা আক্তার শাম্মী ও চিকিৎসক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতের সঙ্গে কাঁচামরিচ খাওয়া শরীরের জন্য অবশ্যই উপকারী, তবে তা হতে হবে পরিমিত। দিনে একটি থেকে দুটি কাঁচামরিচ খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ঝাল খেলে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সহ্যক্ষমতা বুঝে এটি খাওয়া।
কাঁচামরিচ খাওয়ার ৬ উপকারিতা: পরিমিত কাঁচামরিচ খাওয়ার বেশ কিছু জাদুকরী উপকারিতা রয়েছে:
১. হজমে সহায়ক: কাঁচামরিচ চিবিয়ে খেলে মুখে লালা নিঃসরণ বাড়ে, যা খাবার ভাঙতে ও সহজে হজম করতে সাহায্য করে। এটি গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা কমাতেও কার্যকর। ২. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেটাবলিজম: এতে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ উপাদান শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। ফলে শরীর দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে পারে এবং অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। ৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় কাঁচামরিচ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এটি সাধারণ সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। ৪. হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষা: কাঁচামরিচ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। ৫. চোখ ও ত্বকের যত্ন: এতে থাকা ভিটামিন এ এবং বি-৬ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ত্বককে উজ্জ্বল ও সজীব রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে। ৬. মানসিক প্রশান্তি: অবাক করা বিষয় হলো, ঝাল কাঁচামরিচ খেলে মস্তিষ্কে ‘এন্ডোরফিন’ বা ‘ফিল গুড’ হরমোন নিসৃত হয়। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন