নাজমুল হোসাইন মাহী, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: কখনও ধামাকা নিউজের সাংবাদিক, কখনও পুলিশের সোর্স আবার কখনও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব—নানান মুখোশে সাতক্ষীরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন গাজী ফরহাদ। আশাশুনি উপজেলার বসুখালী বালিপুর গ্রামের হামিদুল গাজীর ছেলে হাবিবুল বাশার ওরফে গাজী ফরহাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্টের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি, যা নিয়ে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
কে এই ফরহাদ? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজী ফরহাদ নিজেকে ‘কালবেলা’ ও ‘স্টার নিউজ’-এর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে আসছেন। কোনো বৈধ আয় বা ব্যবসা না থাকলেও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এসপি বাংলোর সামনে ভিআইপি বাসা ও অফিস ভাড়া নিয়ে তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মূলত পুলিশের সোর্স এবং আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করতেন।
সন্ত্রাস ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুজ্জামানের ‘একান্ত সোর্স’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ফরহাদ। এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ডিবি পুলিশ দিয়ে আটক বাণিজ্য এবং ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন। ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি আমিনুর রহমান ও বিএনপি সমর্থিত আনারুল চেয়ারম্যানসহ অনেকের ওপর নির্যাতনের নেপথ্যে তার হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, সাতক্ষীরা পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র ও বিএনপি নেতা তাসকিন আহমেদ চিশতির বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার এবং তাকে বরখাস্ত করার ষড়যন্ত্রেও ফরহাদ সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার তৎকালীন সিও নাজিম উদ্দিনকে নারী ও মদের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতেন তিনি।
নারীদের সঙ্গে প্রতারণা: শুধু রাজনৈতিক দমন নয়, ফরহাদের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিয়ের নামে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নারী কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজির মামলা থাকলেও ‘অদৃশ্য খুঁটির জোরে’ তিনি সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।
ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক মহল: গাজী ফরহাদের কর্মকাণ্ডে সাতক্ষীরার মূলধারার সাংবাদিকরাও ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, ভুয়া সাংবাদিকতার মাধ্যমে ফরহাদ মহান পেশাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
সাতক্ষীরার জুলাই যোদ্ধা নাজমুল ইসলাম রনি, মৎস্যজীবী দলের নেতা মোফাজ্জল বিশ্বাস এবং সাংবাদিক পার্থ বলেন, ‘‘ছাত্রলীগের ক্যাডার ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে গাজী ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল ও অপকর্ম করে আসছেন। ৫ আগস্টের পর তিনি আবারও আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’’
অভিযুক্তের বক্তব্য: এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাজী ফরহাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই তিনি ফোন কেটে দেন।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন