Deleted
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে গেলেও পরীক্ষা নিচ্ছেন অভিভাবকরা

শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে গেলেও পরীক্ষা নিচ্ছেন অভিভাবকরা

দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে মেহেরপুরের ৩০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চলছে সহকারী শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচি। এ অবস্থায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে খাতা সংগ্রহ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।

কোথাও কোথাও অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসে পরীক্ষা বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সঠিক মূল্যায়ন বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কর্মবিরতির কারণে কোনো শিক্ষকই পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়ে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক রুবেল হোসেন বলেন, "শিক্ষকদের কর্মবিরতির ঘোষণা শোনার পর থেকেই বাচ্চাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আহ্বানে অভিভাবকরাই পরীক্ষার খাতা বিতরণ, প্রশ্ন দেওয়া থেকে শুরু করে কক্ষ তদারকি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।"

আরেক অভিভাবক সুমি খাতুন বলেন, "আমি পরীক্ষার হলে শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। বাচ্চারা সারা বছর যে পরিশ্রম করে তার মূল্যায়ন হয় এই পরীক্ষায়। শিক্ষকদের এমন আন্দোলনে আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেদেরই দায়িত্ব পালন করছি।"

অভিভাবক শহিদুল বলেন, "শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা জিম্মি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলন তারা করুক, কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সময়মতো নিতে পারতো।"

গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ রাজা বলেন, "গতকাল পরীক্ষা নিতে পারিনি। আজ উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিও) স্যার এসে বলেছেন যে কোনোভাবে পরীক্ষা নিতে হবে। শিক্ষকরা সহযোগিতা না করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম জয়নুল ইসলাম বলেন, "বেশিরভাগ সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা নিচ্ছেন না। তাই প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান হবে।"

মারুফ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে বৈঠক করবেন ট্রাম্প-নেতানিয়া

1

শাহবাগে জুম্মার নামাজ আদায়, বাড়ছে মানুষের ঢল

2

জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী বাংলাদেশ পরিচালিত হবে: আদিলুর রহম

3

প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ছাড়ালো ৪৫০০ ডলার

4

ঘটনাস্থলে না গিয়েই প্রতিবেদন! সাতক্ষীরায় ভূমি কর্মকর্তার বির

5

বিএনপির দপ্তরে মনোনয়নবঞ্চিতদের অভিযোগ, তৃণমূলে অস্থিরতা চরমে

6

তালা লাগিয়ে বিএনপি নেতার ঘরে আগুন, মারা গেল শিশু

7

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে আগুন

8

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ফেসবুক আইডি হ্যাকড

9

খালেদা জিয়ার মৃত্যু একটি বড় ধাক্কা: জয়

10

অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে কোনো দেশের হস্তক্ষেপ চায় না বাংলাদেশ: খ

11

কিশোরগঞ্জে বিএনপির প্রার্থী বাতিলের দাবিতে নারীদের ঝাড়ু মিছি

12

ছলচাতুরি করে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই: মান্না

13

আদালত অবমাননা : নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ফজলুর রহমান

14

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ

15

কুমিল্লায় বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোয়ারের বাড়িতে আগুন

16

তেহরানে সাময়িকভাবে বন্ধ ব্রিটিশ দূতাবাস

17

দেশের বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম

18

চাঁদাবাজ নয়, সৎ প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি কমবে: দুদক

19

জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বা

20
সর্বশেষ সব খবর