যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার শিকাগো অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে সমালোচকেরা প্রতিপক্ষকে শাস্তি ও মতপ্রকাশ দমনের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বিচারপতিরা ইলিনয় কর্মকর্তাদের মামলায় এক বিচারকের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। আদালত বলেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সরকার ইলিনয়ে আইন কার্যকরে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের কর্তৃত্বের উৎস চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রেসিডেন্টের এ কর্তৃত্ব শুধু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
আদালতের তিন রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো, ক্ল্যারেন্স থমাস ও নিল গরসাচ এই আদেশের বিরোধিতা করেছেন।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প আমেরিকার জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি অভিবাসন আইন কার্যকর করতে ও ফেডারেল কর্মীদের সহিংস দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে রক্ষায় অক্লান্ত পরিশ্রম করবেন এবং আজকের রায়ে সেই মূল এজেন্ডা থেকে কিছুই খর্ব হয়নি।
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ধারাবাহিক অপব্যবহার রোধ ও ট্রাম্পের স্বৈরাচারী অগ্রসরতা ধীর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ আদালত ট্রাম্পের ফিরে আসার পর তার নীতিকে প্রায়শই সমর্থন দিয়েছে। ফলে এ রায়কে বিরল ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস, মেম্ফিস ও ওয়াশিংটন ডিসির পর শিকাগো ও পোর্টল্যান্ডে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন দমনে বিক্ষোভে ফেডারেল সম্পত্তি রক্ষায় সেনা প্রয়োজন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে বর্ণনা করায় ফেডারেল বিচারকেরা প্রশাসনের দাবিতে সন্দেহ প্রকাশ করেন।জেলা বিচারক পেরি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলেন, বিদ্রোহ বা আইন অকার্যকরের প্রমাণ নেই; সেনা মোতায়েন আগুনে ঘি ঢালবে।
পোর্টল্যান্ডে পৃথক মামলায়ও সেনা মোতায়েন স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন