রংপুরে ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পানে অসুস্থ হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে বিষাক্ত এই স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। বর্তমানে আরও দুইজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব শিবপুর গ্রামের আব্দুল মালেক এবং সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজপাড়ার রাশেদুল ইসলাম। তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জের শ্যামপুরহাট এলাকার জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে বসে বেশ কয়েকজন ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পান করেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁরা অসুস্থ হতে শুরু করেন।
রোববার রাতেই নিজ বাড়িতে মারা যান আলমগীর হোসেন, সোহেল মিয়া এবং জেননাত আলী।
একই ধরণের ঘটনায় অনিল চন্দ্রের ছেলে মানিক চন্দ্র গত সোমবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে মঙ্গলবার হাসপাতালে মারা যান।
সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার ও সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই স্পিরিটের অবৈধ কারবার চলছে। বিষয়টি আগে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তিনি এলাকায় মাদকের এমন মরণনেশা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানিয়েছেন, আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মারুফ/সকালবেলা
মন্তব্য করুন