আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক গণভোট আয়োজন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই গণভোটকে সামনে রেখে ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগান ব্যবহার করে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি বিশেষ লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন দেশের চাবি আপনার হাতে’ শিরোনামের এই লিফলেটে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যা ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
লিফলেট অনুযায়ী, ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশে নিম্নলিখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হবে:
১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন: এসব প্রতিষ্ঠান গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করার সুযোগ পাবে।
২. সংবিধান সংশোধন: সরকারি দল এককভাবে বা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না।
৩.গণভোটের বিধান: গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত বা গণভোটের বিধান স্থায়ী হবে।
৪. বিরোধী দলের ভূমিকা: সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
৫. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ: কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
৬. নারী প্রতিনিধিত্ব: সংসদে নারীদের আসন ও প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।
৭. উচ্চকক্ষ গঠন: ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
৮. স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা পাবে।
৯. মৌলিক অধিকার: ইন্টারনেট সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না—এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মৌলিক অধিকারের তালিকায় যুক্ত হবে।
১০. ক্ষমার সীমাবদ্ধতা: দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করার ক্ষমতা পাবেন না।
১১. ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সুষম বণ্টন ও ভারসাম্য নিশ্চিত হবে।
লিফলেটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। পরিবর্তনের এই চাবি জনগণের হাতেই ন্যস্ত।
গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ সম্পর্কিত আরও তথ্য জানতে এবং বিস্তারিত পড়তে ভিজিট করার জন্য www.gonovote.gov.bd এবং www.gonovote.bd ওয়েবসাইট দুটি ব্যবহার করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।