দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তার আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকসহ ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উদ্দীপনা। বিগত বছরগুলোতে জেলায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামগুলোতে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিতেই ঠাকুরগাঁও আসছেন তিনি।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার রাতেই তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে থাকবেন।
পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন। আন্দোলনে নিহত আরও তিন জনের কবর জিয়ারতের কথা থাকলেও সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়ায়, সময় ও কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু আল মামুনের কবরেই শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
এরপর বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। কর্মসূচি শেষ করে একই দিন তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন , ‘আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও আসবেন। তাই তার এখানে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা যাচ্ছে না। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালের শীতকালে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে এসেছিলেন।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার তারেক রহমানের আগমন নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এ উপলক্ষে আমরা একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছি। প্রশাসনকে নিরাপত্তার বিষয়ে অবহিত করেছি। নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে বড় জনসভার সুযোগ না থাকলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।’
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম বলেন, ‘দেশ ও জাতি এই ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমানের মধ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দৃঢ়চেতা আপসহীন সুযোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলি খুঁজে পাবে। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।’
সাম্প্রতিক সময়ে ভার্চ্যুয়ালি তারেক রহমান জেলার বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন একাধিকবার। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি ঠাকুরগাঁও জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
মন্তব্য করুন