নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগ করেছে, আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ বিষয় ধরে এসব প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এর পেছনে কোনো মহলের ইন্ধন রয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অভিযোগ করেন।
বাতিল হওয়া আসন ও কারণ: বাছাই প্রক্রিয়ায় গাইবান্ধা-১, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২, জামালপুর-৩, ঢাকা-২, কুমিল্লা-৩ এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
গাইবান্ধা-১: এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়ায় এ আসনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জামায়াতের দাবি, একই কারণ থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য জেলায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দ্বিমুখী আচরণ।
কুড়িগ্রাম-৩ ও যশোর-২: বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের নথিপত্র জমা না দেওয়ার কারণ দেখিয়ে এই দুই আসনে জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
জামায়াতের বক্তব্য: বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যমূলক বাড়াবাড়িতে অনেক যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য-প্রমাণ ও কাগজপত্র দাখিল করার পরও উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা সমীচীন হয়নি। কোনো একটি মহলের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এ রকম চলতে থাকলে নির্বাচন কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে তা দেশবাসীর কাছে বড় প্রশ্ন।’’
সিইসির প্রতি আহ্বান: রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেন গুরুত্বহীন ও তুচ্ছ ঘটনায় প্রার্থিতা বাতিল না করেন, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত নেতা। একইসঙ্গে যে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ‘তুচ্ছ অজুহাতে’ বাতিল করা হয়েছে, তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার দাবিও জানান তিনি।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন