গাজীপুরের বাসন থানা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন এনসিপি নেতা হাবিব চৌধুরী (২৪)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাসন থানার যোগীতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হাবিব চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে গাজীপুরের মোগরখাল এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি এনসিপির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে, হাবিব সম্প্রতি অনলাইনে তাঁর মোটরসাইকেল বিক্রির একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁরা হাবিবকে মোগরখাল এলাকার একটি নির্জন স্থানে ডাকেন।
হাবিব সেখানে পৌঁছানোর পর একজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল চালিয়ে দেখার (টেস্ট রাইড) কথা বলে সেটিতে ওঠেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই অন্যজন হাবিবকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়েন। ভাগ্যক্রমে গুলিটি তাঁর শরীরে লাগেনি। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চম্পট দেয়।
ভুক্তভোগী হাবিব চৌধুরী বলেন, “মোটরসাইকেলের যা দাম, তার চেয়ে কিছুটা বেশি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা আগ্রহ দেখায়। ঘটনাস্থলে গেলে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।”
এই ঘটনার পর এনসিপির গাজীপুর মহানগর যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এটি সাধারণ কোনো ছিনতাই নয় বরং পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা ছিল। তিনি বলেন, “এনসিপি সদস্য হাবিব চৌধুরীকে ট্র্যাপে ফেলা হয়েছিল। শহীদ ওসমান হাদিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আজ তাকেও একইভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তারা কেউই নিরাপদ নন। আমরা ১২ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি, এর মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করায় টহল পুলিশ জোরদার করা হয়েছে।
মারুফ/সকালবেলা
মন্তব্য করুন