যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পরও ভেনেজুুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার তাকে নেতা মেনে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) এমন দাবি করেছেন দেশটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা। মার্কিন অভিযানে মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর ঘনিষ্ঠ শীর্ষ কর্মকর্তারাই এখনও রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছেন। তারা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করাকে অপহরণ বলে উল্লেখ করেছেন। ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দল পিএসইউভি প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, এখানে বিপ্লবী শক্তির ঐক্য প্রশ্নাতীত। এখানে একমাত্র একজনই প্রেসিডেন্ট, তার নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস। শত্রুর উসকানিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।
মাদুরো নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে সোমবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা। শনিবার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর ছবি প্রকাশিত হয়।রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩৭ বছরে পানামা আক্রমণের পর লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিতর্কিত হস্তক্ষেপ এই ঘটনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদ্রিনো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেনাসদস্য, বেসামরিক নাগরিক এবং মাদুরোর নিরাপত্তা বহরের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব হত্যাকাণ্ড ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের এমন দাবি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন। অন্য দিকে, ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রদ্রিগেজ সঠিক কাজ না করলে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতৃত্বকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে তেল শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাত থেকে দূরে রাখা এবং মাদক পাচার বন্ধ করা। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার আটকে রেখে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার অভিযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য তাদের তেল সম্পদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলো বলেন, সবকিছু এখন স্পষ্ট তারা শুধু আমাদের তেলই চায়।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার এই পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা আক্রমণের কঠোর সমালোচনা করেছে।
মন্তব্য করুন